1. smmarufbillah@yahoo.com : admin : Maruf Billah
  2. hr.knackflair@gmail.com : Sazzad Sabbir : Sazzad Sabbir
  3. shamim.unisa@gmail.com : Shamim Hossain : Shamim Hossain
সদ্য পাওয়াঃ
ইটাবের নতুন কার্যকরী পরিষদ নির্বাচিত খালেদা জিয়া হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে, শ্বাসকষ্টে বাড়তি সতর্কতা ইসরায়েলের হামলায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডার নিহত কুমিল্লা-৬: বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে তৎপরতায় তৃণমূল ক্ষুব্ধ রামপুরা হত্যাকাণ্ড: দুই সেনা কর্মকর্তা আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির “মানবতাবিরোধী অপরাধ: শেখ হাসিনা কি সত্যিই বিচারকে মুখোমুখি হবেন?” আল-জাজিরার রিপোর্ট মিয়ানমারের মাদক বাংলাদেশকে নীরবে ধ্বংস করছে: এক জাতীয় সতর্কবার্তা ধর্মীয় ইস্যুর উদ্দেশ্যমূলক ব্যাখ্যা সমাজে অস্থিরতার কারণ: তারেক রহমান সুপার ওভারে ভেঙে গেল বাংলাদেশের স্বপ্ন অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপ বাছাই – ব্রুনাইকে ৮–০ গোলে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দল

ভূমিকম্পে কাঁপলো দেশ

  • পোস্টিং সময় : শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৮ Time View

শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট। ছুটির দিনটিতে ঢাকার অনেক বাসিন্দা ঘুমে ছিলেন। কেউবা ঘুম থেকে উঠে নাস্তাসহ অন্যান্য কাজকর্ম সারছিলেন। কেউ কেউ ছিলেন বাইরে নানা ব্যস্ততায়। ঠিক তখনই কেঁপে ওঠে ঢাকাসহ সারা দেশ। ছোট-বড় ভবনগুলো কাঁপছিল। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জিনিসপত্র কাঁপুনিতে নিচে পড়ছিল। বাসাবাড়িতে টাঙানো ছবি, শো-পিস ফ্লোরে পড়ে ভাঙছিল। শুয়ে থাকা ব্যক্তি যেমন শুয়ে থাকতে পারছিলেন না ঠিক তেমনিই দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি, হাসপাতাল ও যানবাহনে অবস্থানরতরাও নিজেদের
রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। ভয়ে হাসপাতালের রোগীরা আহাজারি করছিলেন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই চারপাশের ভবন থেকে ভেসে আসছিল কান্না, চিৎকারের শব্দ। নিজ ধর্মের রীতি অনুযায়ী প্রত্যেকেই সৃষ্টির কর্তার নাম নিচ্ছিলেন। মসজিদে আযান আর মন্দির-বাসায় উলুধ্বনি দেয়া হয়। উঁচু ভবনের বাসিন্দারা বাঁচার জন্য যে যেভাবে ছিলেন নিচে নামছিলেন। আতঙ্কে হতভম্ব হয়ে পড়েন মানুষ। ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠার পর ঢাকাসহ সারা দেশের চিত্র প্রায় এমনটাই ছিল। ঢাকার অদূরে নরসিংদীর মাধবদীতে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে সারা দেশে ১১ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আর আহত হয়েছেন অন্তত চার শতাধিকের বেশি মানুষ। গুরুতর আহত হয়ে অনেকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আনুমানিক ১০ সেকেন্ডের মতো স্থায়ী ভূমিকম্পে হেলে পড়েছে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক ভবন। অনেক ভবনে দেখা দিয়েছে ফাটল। এছাড়া ছাদের কার্নিশ, দেয়াল ভেঙে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। ভূমিকম্পে হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ইউনূস। একইসঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন।

ভূমিকম্পে নিহত হলেন যারা-
ভূমিকম্পে সারা দেশে নিহত ১১ জনের মধ্যে ঢাকায় ৪ জন, নরসিংদীতে ৫ জন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের কালীগঞ্জে ২ জন রয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজধানীর মুগদার মদিনাবাগে ভূমিকম্পের সময় নির্মাণাধীন ভবনের রেলিং ধসে পড়ে মাকসুদ (৫০) নামে এক নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত মাকসুদের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরসীতা গ্রামে। আরমানিটোলায় তিনজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- আব্দুর রহিম এবং তার ছেলে রিমন (১২)। তাদের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার বশিকপুর ইউনিয়নে। আব্দুর রহিম পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। অন্যজন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম। নরসিংদীতে নিহতরা হলেন- ওমর (১০), দেলোয়ার হোসেন (৩৭) ও কাজম আলী (৭৫) ও কাজীরচর নয়াপাড়া গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন (৬৫) ও ফোরকান আলী। নিহত ওমর ও দেলোয়ার সম্পর্কে বাবা-ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার উত্তরপাড়া গ্রামে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে ফাতেমা নামের ১০ মাসের একটি শিশু নিহত হয়েছে। গাজীপুরের কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়নে একটি গাছ থেকে পড়ে সুজিৎ দাস (৩৮) নামের আরেক যুবক মারা যান।

সরজমিন দেখা যায়, ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পরপরই ঢাকার বিভিন্ন ভবনের বাসিন্দারা অলিগলি, সড়ক ও খোলা মাঠে নেমে আসেন। প্রায় প্রতিটি এলাকার কোনো না কোনো ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের আধাঘণ্টার পরও অনেকে স্বাভাবিক মানসিকতায় ফিরে আসতে পারেননি। সবার মধ্যেই আতঙ্ক বিরাজ করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকেই তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেছেন- এমন ভূমিকম্প আর কখনও উপলব্ধি হয়নি। ভূমিকম্পের পর সাবস্টেশনসহ ঘোড়াশালের সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টাও শোকবার্তা জানিয়েছেন।

ঢাকার মিরপুর এলাকার গৃহিণী তাসমিয়া তাসু বলেন, চুলায় পানি বসিয়ে বিছানায় মাত্র বসেছিলাম। তখনই একটি ধাক্কা খেলাম। প্রথম ধাক্কায় বিছানা থেকে সরিয়ে দিলো। এমন দুই তিনটা ধাক্কা দেয়ার পর কয়েক সেকেন্ডের জন্য থেমেছিল, ভেবেছিলাম এতটুকুই, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই পুরো বাড়ি কাঁপা শুরু করলো। বাসনপত্র সব একটা আরেকটার সঙ্গে ঘষা খেয়ে শব্দ করে। মনে হচ্ছিল ছাদ ধসে পড়বে এমন। খুব কম সময় স্থায়ী ছিল। আমি পাঁচ তলায়, ছাদে যাবো না নিচে নামবো সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না। তবে মাথা ঘুরছিল আর শরীর কাঁপছিল প্রায় আধাঘণ্টা। বংশাল এলাকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন বলে অনেক বেলা করে ঘুমাচ্ছিলাম। ভূমিকম্পের প্রথম সেকেন্ডের ধাক্কায়ই ঘুম ভেঙে যায়। তড়িঘড়ি করে পরিবারের বাকি সদস্যদের খুঁজছিলাম। দেখি সবাই নিজেরাই এদিক সেদিক ছুটোছুটি করছিলেন। সবাই আতঙ্কিত হয়েছিলেন। মনে হচ্ছিলো আজই শেষ দিন আমাদের। ভূমিকম্প আর কিছুক্ষণ স্থায়ী হলেই হয়তো পুরো ঢাকা শহর ধ্বংসস্তূপ হয়ে যেতো। তিনি বলেন, আমরা কাঁপুনি শেষ হওয়ার পর বাইরে বেরিয়ে আসি। দেখলাম আমাদের মতো আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই বেরিয়ে এসেছেন। রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার আনোয়ারা গার্ডেন সিটির অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ভূমিকম্পের সময় নামতে গিয়ে আতঙ্কে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে আনিশা নামের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। তার প্রতিবেশীরা জানান, ভয়ে আমরা সবাই ভবনে নিচে যাচ্ছিলাম। দেখি অনেকেই ইতিমধ্যে রাস্তায় নেমে এসেছেন। অনেক শিশু বাচ্চারা কান্নাকাটি শুরু করেছে ভয় পেয়ে। মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের হাসিনা আক্তার নামের এক নারী জানান, মনে হচ্ছে মেঝে দুলছিল। ঘরের চারদিকে মনে হচ্ছিলো সব ভেঙে পড়বে।

হেলে পড়েছে বিভিন্ন ভবন, ফাটল: আরমানিটোলা এলাকায় একটি ভবনের ছাদের রেলিং ভেঙে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এদিকে, রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে পার্শ্ববর্তী দোতলা ভবনে একটি ইট পড়ে একজন আহত হয়েছেন। তবে স্থানীয় লোকজন কর্তৃক তাকে হাসপাতালে নেয়ায় ফায়ার সার্ভিসের কোনো কাজ করতে হয়নি। সূত্রাপুর, স্বামীবাগ এলাকায় একটি আটতলা ভবন অন্য একটি ভবনে হেলে পড়েছে। রাজধানীর সিপাহীবাগে একটি ভবন আরেকটি ভবনের ওপর হেলে পড়েছে। এ ছাড়া কলাবাগানের আবেদখালী রোডে একটি সাততলা ভবন হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেলেও মোহাম্মদপুর ফায়ার স্টেশন জানায়, ভবনটি ঠিক ছিল এবং লোকজন আতঙ্কিত হয়েই ফোন করেছিল।

হল থেকে লাফ দিয়ে ও হুড়োহড়িতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ শিক্ষার্থী আহত: তীব্র ভূমিকম্পের সময় সারা দেশের মতো আতঙ্ক দেখা দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও। বিভিন্ন হল থেকে লাফ দিয়ে ও হুড়োহুড়িতে অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনের পা ভেঙে গেছে। ভূমিকম্পে সূর্যসেন হল, সুফিয়া কামাল হল ও শামসুন্নাহার হলের দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল থেকে একদল শিক্ষার্থী বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ তলাবিশিষ্ট স্বাধীনতা টাওয়ার ভবনের সামনে গিয়ে নিরাপদ হলের দাবিতে স্লোগান দেন। উপাচার্য, প্রক্টর ও কোষাধ্যক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রূপগঞ্জে ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে শিশু নিহত, মা’সহ আহত ২: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে ফাতেমা নামের ১০ মাসের একটি শিশু নিহত হয়েছে। এ সময় শিশুটির মা কুলসুম বেগমসহ দু’জন আহত হন। উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ইসলামবাগ ৫ নম্বর ক্যানেল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফাতেমা ওই এলাকার আবদুল হকের মেয়ে। জানা গেছে, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে কুলসুম বেগম তার মেয়ে ফাতেমাকে কোলে নিয়ে বাড়ির বাইরে দৌড়ে আসেন। এ সময় প্রতিবেশী জেসমিন বেগম (৩৫) ঘর থেকে বের হয়ে সড়কে এসে আশ্রয় নেন। ঠিক তখনই সড়কের পাশে থাকা একটি সীমানাপ্রাচীর তাদের ওপর ধসে পড়ে। ইটের চাপায় ঘটনাস্থলেই শিশু ফাতেমা নিহত হয়। আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করেন। আহত অবস্থায় কুলসুম বেগম ও জেসমিন বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

গাজীপুরে গাছ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু: গাজীপুরের কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়নে একটি গাছ থেকে পড়ে সুজিৎ দাস (৩৮) নামের এক যুবক মারা যান। তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ভূমিকম্পের ফলে শাদেরগাঁ জামে মসজিদের দু’টি গম্বুজও ভেঙে গেছে এবং বিভিন্ন স্থাপনা ও একটি স্কুল ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে।

শাহ্‌জালালে পলেস্তার খসে পড়েছে: ভূমিকম্পে ঢাকার হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি বিমের পলেস্তারা খসে পড়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পলেস্তারা মেরামত করছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। শাহ্‌জালাল বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ভূমিকম্পে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২-এর দ্বিতীয় তলায় ক্যানোপির (আচ্ছাদন) একটি বিমের পলেস্তারা খসে পড়ে। তবে তা কোনো যাত্রীর ওপর পড়েনি। এ ছাড়া মূল কাঠামোর কোনো সমস্যা হয়নি। এ কারণে বিমানবন্দর দিয়ে যাত্রীদের যাতায়াতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ভূমিকম্পের সময় ক্যানোপিতে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ভূমিকম্প চলাকালে উপস্থিত যাত্রীরা আঁতকে ওঠেন। এদিক-সেদিক দৌড়াতে থাকেন। ক্যানোপিতে যেসব যাত্রী এবং তাদের স্বজনরা ছিলেন, তারাও নিরাপদ স্থানে যেতে থাকেন। এর মধ্যে দ্বিতীয় তলায় চার নম্বর ফটক-সংলগ্ন বিমের পলেস্তারা খসে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। পরে দ্রুত সময়ের মধ্যে তা মেরামত করা শুরু করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
ঢামেকে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪১ জন, ‘পঙ্গু’তে ৯০ জন
এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পে আহতদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪১ জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জনকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সেখানে ওমরের (১১) মৃত্যুর পাঁচ ঘণ্টা পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাবা মো. উজ্জ্বল হোসেন (৪০)। শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে নিহত উজ্জ্বলের ছেলে ওমর (১১) দুপুরে মারা যান। তারা দুইজনই নরসিংদী থেকে আহত হয়ে এসেছিলেন।

নিহত উজ্জ্বলের ভাই মো. জাকির হোসেন বলেন, আমার ভাই নরসিংদী পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের অফিস সহকারী হিসাবে চাকরি করতেন। সকালের দিকে নরসিংদীর গাবতলী এলাকায় ভাড়া বাসায় ভূমিকম্পের সময় বাসা থেকে তার ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে দ্রুত বের হওয়ার সময় বাসারসানসেট তাদের শরীরের উপর ভেঙে পড়ে। আমরা তাদের চারজনকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে সেখান থেকে আমার ভাই ও ভাতিজাকে দ্রুত ঢামেকের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে আমার ভাতিজা ওমরকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করে ও আমার ভাইকে ভর্তি দেয়া হয়। প্রথমে জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে পরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে ভর্তি দিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, আমার ভাতিজা নরসিংদীর একটি মাদ্রাসায় পড়তো। আমাদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া থানার উত্তরপাড়া গ্রামে।

এদিকে শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ভূমিকম্পে আহতদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। ভর্তি ৬ জন হলেন- মগবাজার থেকে আহত আবু বক্কর সিদ্দিক (৫৪), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলের নুরুল হুদা (২০), সূর্যসেন হলের আশিক (২২), কিশোরগঞ্জের উজ্জ্বল (৪০), খিলগাঁওয়ের হারুন (৫৫) ও শিশু বিল্লাল (৬)।

ঢামেকের জরুরি বিভাগে সরজমিন দেখা যায়, ভর্তি আহতরা হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন। কারও পা ভেঙেছে, কারও মাথায় ও হাতে আঘাত পেয়েছেন। ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের ২২ নম্বর বেডে ভর্তি ঢাবির সূর্যসেন হলের জাহিদুল আলম আশিক। তার বাম পা ভেঙে যায়। আশিক বলেন, রাতে আমার হলে বিদ্যুৎ ছিল না সেজন্য খুব একটা ঘুমাতে পারিনি। সকালের দিকে খুব গভীর ঘুমে ছিলাম এ অবস্থায় আমার শরীর কেঁপে ওঠে। দেখি আমার রুমমেট দৌড়াচ্ছে। তাকে দৌড়াতে দেখে আমিও দরজা খুলে বারান্দায় আসি। সেখানে ৫-৬ ফুটের একটা রেলিং ছিল সেটি টপকে লাফ দেই। আমাদের হলগুলো অনেক পুরাতন। যার কারণে বড় কোনো ভূমিকম্প হলে প্রাণহানির শঙ্কা ছিল। সবসময় আতঙ্কে থাকতাম, এই আতঙ্ক থেকে এমন ঘটনা ঘটেছে। যখন লাফিয়ে পড়েছি তখন বাম পায়ের উপরে ভর পড়ে এবং ভেঙে যায়।

৯০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন পঙ্গু হাসপাতালে: রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (পঙ্গু হাসপাতাল) শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত ভূমিকম্পে আহত ৯০ জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নামতে গিয়ে, মাথা ঘুরে পড়ে ও ভারী বস্তু চাপা পড়ে আহত হয়েছেন অনেকে। বিকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত রাজধানী ও আশপাশের জেলা থেকে হাসপাতালটিতে ভূমিকম্পের ঘটনায় ভবন থেকে পড়ে, কোনো কিছুর আঘাতে আহত ৯০ জন রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পড়ুন
Copyrights© 2025 BDSkyNews. All rights reserved.
Site Customized By NewsTech.Com