1. smmarufbillah@yahoo.com : admin : Maruf Billah
  2. hr.knackflair@gmail.com : Sazzad Sabbir : Sazzad Sabbir
  3. shamim.unisa@gmail.com : Shamim Hossain : Shamim Hossain
সদ্য পাওয়াঃ
ইটাবের নতুন কার্যকরী পরিষদ নির্বাচিত খালেদা জিয়া হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে, শ্বাসকষ্টে বাড়তি সতর্কতা ইসরায়েলের হামলায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডার নিহত কুমিল্লা-৬: বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে তৎপরতায় তৃণমূল ক্ষুব্ধ রামপুরা হত্যাকাণ্ড: দুই সেনা কর্মকর্তা আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির “মানবতাবিরোধী অপরাধ: শেখ হাসিনা কি সত্যিই বিচারকে মুখোমুখি হবেন?” আল-জাজিরার রিপোর্ট মিয়ানমারের মাদক বাংলাদেশকে নীরবে ধ্বংস করছে: এক জাতীয় সতর্কবার্তা ধর্মীয় ইস্যুর উদ্দেশ্যমূলক ব্যাখ্যা সমাজে অস্থিরতার কারণ: তারেক রহমান সুপার ওভারে ভেঙে গেল বাংলাদেশের স্বপ্ন অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপ বাছাই – ব্রুনাইকে ৮–০ গোলে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দল

মিয়ানমারের মাদক বাংলাদেশকে নীরবে ধ্বংস করছে: এক জাতীয় সতর্কবার্তা

  • পোস্টিং সময় : সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২১ Time View

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অশান্ত অঞ্চলে অবস্থিত মিয়ানমার দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার মধ্যে আচ্ছন্ন। দুর্বল রাষ্ট্র কাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি দুর্নীতি এবং অভ্যন্তরীণ সংঘাত মিলিয়ে দেশটি এখন বিশ্বের অন্যতম বড় মাদক উৎপাদনকেন্দ্র। বিশেষ করে “গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল”—যেখানে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও লাওস সংযুক্ত—এটি ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ উৎপাদনের জন্য সুপরিচিত।
বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর ওপর মাদক কারবারের প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্ট। এই ‘ভোক্তা বাজার’ ক্রমবর্ধমান এবং বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অপরাধীদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক। মিয়ানমারের উৎপাদিত মাদক আজ বাংলাদেশের সমাজ, পরিবার, অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রব্যবস্থাকে গভীর ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও মাদকের প্রবেশপথ
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে নাফ নদী, পাহাড়ি অরণ্য, বিচ্ছিন্ন গ্রাম ও কাঁটাতারহীন পথ মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য প্রবেশপথ হিসেবে কাজ করছে। ট্রলার, মাছ ধরার নৌকা, পর্যটক বা সাধারণ মানুষের ব্যাগ- সবই এখন মাদকের পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যবহার হচ্ছে। অনলাইন অর্ডার, কুরিয়ার প্যাকেট, এমনকি অ্যাপভিত্তিক ডেলিভারি সিস্টেমের মাধ্যমে মাদক বিতরণ ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।

মাদকের এই প্রক্রিয়াগুলো প্রমাণ করছে, এটি এখন আর একক অপরাধ নয়; এটি একটি আন্তর্জাতিক, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক অপরাধ চক্র, যা পুরো বাংলাদেশের নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ করছে।

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ক্ষতি

মাদকসেবনের প্রভাব প্রথমে পড়ে ব্যক্তির উপর। ইয়াবা বা আইস কয়েক মাস নিয়মিত গ্রহণ করলে মানসিক স্থিতি ভেঙে যায়, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়, চিন্তাশক্তি নষ্ট হয়, হ্যালুসিনেশন দেখা দেয় এবং আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ে। শারীরিকভাবে হার্ট, কিডনি, লিভার, মস্তিষ্ক—সবকিছুর ওপর প্রভাব পড়ে। আর্থিকভাবে পরিবার নিঃস্ব হয়, অপরাধের পথে ধাবিত হয়।
পরিবারও সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। মাদকাসক্ত সন্তানের কারণে বাবা-মা মানসিক যন্ত্রণায় ভোগেন, সংসারে অশান্তি বাড়ে, স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এমন পরিস্থিতিতে পরিবার অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।

সমাজ ও নিরাপত্তা খাতে প্রভাব
মাদক সমাজে অপরাধের বিস্তার ঘটায়। ছিনতাই, ধর্ষণ, হত্যা, মারামারি এবং গ্যাং কালচার ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক প্রবেশ নতুন একটি ফ্যাশন হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তরুণরা নিজস্ব সম্ভাবনা ও সৃজনশীলতা হারাচ্ছে।

আইসের প্রভাবে অল্প সময়ের জন্য ‘অপরাজেয়’ মনে হওয়ার ভুল ধারণা থেকে সমাজে বড় অপরাধ সংঘটিত হয়। মাদকের কারণে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে, বিশেষ করে রাতের শহরে।

অর্থনীতি ও শ্রমশক্তিতে প্রভাব
মাদকাসক্ত যুবক চাকরি হারায়, উৎপাদনশীলতা কমে যায়, এবং শিল্প ও কারখানায় দুর্ঘটনা বাড়ে। রাষ্ট্রকে চিকিৎসা, পুনর্বাসন, আইনশৃঙ্খলা ও কারাগারে রাখার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফলে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চাপ পড়ে, উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়। মাদক দেশের অর্থনীতিকে ভিতর থেকে ক্ষয় করছে।

জাতির ভবিষ্যতের জন্য হুমকি
বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি যুব। এই তরুণশক্তিই দেশকে এগিয়ে নেবার মূল চালিকাশক্তি। মাদক যদি এই শক্তিকে নিঃশেষ করে, তবে দেশের ভবিষ্যতই ধ্বংসের পথে চলে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইয়াবা এবং আইসের বিস্তার একটি জাতীয় সতর্কবার্তা।

রাষ্ট্র ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
মাদক ব্যবসার সঙ্গে অস্ত্র, মানবপাচার, জঙ্গি অর্থায়ন, বিদেশি অপরাধচক্র ও দুর্নীতি যুক্ত থাকে। মাদক কারবারিরা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভেতরও প্রভাব বিস্তার করে। স্থানীয় রাজনীতি, প্রশাসন এবং ব্যবসায় এদের শিকড় গাড়ার চেষ্টা চলে। এই “অন্ধকার অর্থনীতি” বৈধ অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফাটল তৈরি করে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা
সবচেয়ে ঝুঁকিতে তরুণ (১৬–৩০ বছর), শিক্ষার্থী, বেকার যুবক, শ্রমজীবী মানুষ, নারী ও শিশু। তারা পরবর্তী সময়ে নতুন সামাজিক সংকটের অংশ হয়ে উঠতে পারে। মাদক শুধু আজকের সমাজকে নয়, আগামী প্রজন্মকেও ধ্বংস করছে।

সমাধানের উপায়
সীমান্ত নিরাপত্তা শক্তিশালী করা – নাফ নদী, পাহাড়ি এলাকা ও উপকূল প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতে আনা।
মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ – দায় এড়াতে পারে না।
দেশের ভিতরের দালালচক্র ধরতে হবে – যারা নোংরা লাভের লোভে দেশকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে।
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্নীতি নির্মূল করা।
শিক্ষা ও পরিবার সচেতনতা বৃদ্ধি – তরুণদের বোঝানো, মাদক কোনো আনন্দ নয়, বরং ধ্বংসের পথ।
পুনর্বাসন কেন্দ্র আধুনিকীকরণ – মাদকাসক্তদের ফিরে আসার সুযোগ নিশ্চিত করা।

উপসংহার
মিয়ানমারের মাদক আজ বাংলাদেশের নীরব শত্রু। এটি পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি ও জাতির ভবিষ্যতকে ধ্বংস করছে। এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে আমরা সম্ভাবনাময় এক প্রজন্ম হারাবো। মাদক-বিরোধী লড়াই শুধুই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নয় – এটি জাতির যৌথ যুদ্ধ। নিজেদের ভবিষ্যত রক্ষার জন্য এই যুদ্ধে বিজয়ী হতে হবে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পড়ুন
Copyrights© 2025 BDSkyNews. All rights reserved.
Site Customized By NewsTech.Com