ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলোতে টানা ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার সকালের শক্তিশালী ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই সাড়ে ৩১ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও তিনবার ভূকম্পন হয়েছে। মাত্র দুই দিনের মধ্যেই চারবার কম্পন হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা বেড়েছে কয়েকগুণ।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর বেশ কিছু দুর্বল কম্পন বা আফটারশক অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক। তবে এ ধরনের পরাঘাত কখনো কখনো আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের **পূর্বলক্ষণ (Foreshock)**ও হতে পারে। তাই ঝুঁকি মোকাবেলায় জরুরি প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
ঢাকায় কম্পনের অনুভূতি
রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকার বাসিন্দা সারিয়া রহমান জানান, ধারাবাহিক কম্পনে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রথমে সামান্য নড়াচড়া ভেবে গুরুত্ব না দিলেও পরে বুঝতে পারেন এটি ভূমিকম্প, যা তার মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়—
শনিবার সকাল ১০:৩৬ মিনিট: নরসিংদীর পলাশে ৩.৩ মাত্রার ভূমিকম্প
সন্ধ্যা ০৬:০৪ মিনিট: ঢাকার বাড্ডায় ৩.৭ মাত্রা
সন্ধ্যা ০৬:০৫ মিনিট: নরসিংদীতে ৪.৩ মাত্রা
শুক্রবার সকাল ১০:৩৮ মিনিট: মাধবদীতে ৫.৭ মাত্রার প্রধান ভূমিকম্প
গবেষকদের মতে, শুক্রবারের ৫.৭ মাত্রার কম্পনটি দেশের ভেতরে হওয়া সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম তীব্র ভূমিকম্প।
আফটারশক, নাকি বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন—
নরসিংদী এলাকায় হওয়া ধারাবাহিক কম্পনগুলো মূলত আফটারশক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
তবে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না—কারণ কম্পনের উৎসস্থল দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়।
বাড্ডার ভূমিকম্পটি আফটারশক নয়, কারণ এর উৎপত্তিস্থল পৃথক, যা ঢাকার ভেতরে লুকানো ফল্ট লাইনের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
গবেষকদের মতে—
ধারাবাহিক ছোট ছোট কম্পন ভূগর্ভে চাপ সঞ্চয়ের ইঙ্গিত দেয়।
নিকট ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি থাকায় এখনই প্রস্তুতি জোরদার করা জরুরি।
ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং জরুরি প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় করার সময় এসেছে।
Leave a Reply