ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় এসে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বাংলাদেশে গত ৫ আগস্টের পর এটি কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর। শনিবার সকালে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস লালগালিচা সংবর্ধনার মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান।
আগমনের পর বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে দুই নেতার মধ্যে সংক্ষিপ্ত আলাপ হয়। তোবগে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি গাছ রোপণ করেন।
দুই দেশের মধ্যে দুইটি নতুন সমঝোতা স্মারক
শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও ভুটান দুইটি MoU সই করে—
১. স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি
২. আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ও টেলিযোগাযোগসেবা বাণিজ্য
স্বাস্থ্য খাতে সমঝোতা স্মারকে সই করেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান এবং ভুটানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি।
টেলিযোগাযোগ বিষয়ক MoU-তে সই করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান।
উভয় চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও শেরিং তোবগে।
সফরের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি
আজ রবিবার প্রধানমন্ত্রী তোবগে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া বিকেলে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে। ঢাকায় অবস্থানরত ভুটানি নাগরিকদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন তিনি।
এ ছাড়া প্রথম দিনের বিভিন্ন বৈঠকে ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, টেলিযোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
স্বাধীন বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেওয়া ভুটান–বাংলাদেশ সম্পর্কের বন্ধুত্বপূর্ণ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দুই দেশই নতুন করে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
Leave a Reply